আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার বড়ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের দিকে লক্ষ্য রেখে আমাদের মনে অবশ্যই এই ধারণা জন্মানো উচিত যে, যখন আল্লাহ্ কোন প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন তখন তিনি তা পূরণ করেই থাকেন, আর প্রতিশ্রুতি পূরণ করাই আল্লাহ্র সুন্নাহ।
“আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আল্লাহ প্রতিশ্রুতির খেলাফ করেন না।” [সূরা ঝুমার ২০]
এবং আরেকটি আয়াতে তিনি বলছেন,
“সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহর ওয়াদা যথার্থ। তিনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়”। [লুকমান ৯ ]
কাজেই যখন কাউকে দেখা যায় যে সে দাবী করছে তার জীবনে আল্লাহ্র দেয়া ওয়াদা কার্যকর হয়নি, কিংবা আল্লাহর প্রতিশ্রুত সাহায্য এসে পৌঁছায়নি কিংবা ভবিষ্যতেও যদি না এসে থাকে তাহলে সেই ব্যক্তির জন্য অনুচিত কাজ হল আল্লাহ্র দেয়া ওয়াদার প্রতি সন্দেহ করা, আর উচিত কাজ হল তার নিজের ঈমানের প্রতি সন্দেহ পোষণ করা। এই সমসস্যা সৃষ্টি হয়েছে তার নিজের কারণে , কারণ যদি কেউ আল্লাহ্র প্রতি সত্যবাদী থাকে তাহলে আল্লাহও তার প্রতি সত্যবাদী থাকেন, আল্লাহ্র প্রতিশ্রুত ওয়াদায় কোন সমস্যা নেই, সমস্যা আমাদের ঈমানে।
১ম প্রতিশ্রুতি
জান্নাত
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলছেন,
“আর হে নবী (সাঃ), যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজসমূহ করেছে, আপনি তাদেরকে এমন বেহেশতের সুসংবাদ দিন, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহমান থাকবে। যখনই তারা খাবার হিসেবে কোন ফল প্রাপ্ত হবে, তখনই তারা বলবে, এতো অবিকল সে ফলই যা আমরা ইতিপূর্বেও লাভ করেছিলাম। বস্তুতঃ তাদেরকে একই প্রকৃতির ফল প্রদান করা হবে। এবং সেখানে তাদের জন্য শুদ্ধচারিনী রমণীকূল থাকবে। আর সেখানে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে”। [সূরা বাকারাহ ২৫]
‘আল্লাহর পক্ষ হতে প্রতিশ্রুতি’ এ কথাটিই কি একজন মুমিনের জন্য যথেষ্ট নয়?
মুমিনদের প্রতি মহান আল্লাহ্র প্রথম প্রতিশ্রুতি হল জান্নাত, আর জান্নাত সম্পর্কে যে অবগত আছে সে ব্যক্তি বাকি ২৪টি ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতি থেকে এর বেশি আর কি প্রত্যাশা করতে পারে? জান্নাত হল এমন স্থান যা কোন চোখ দেখেনি, যা কোন কান শোনেনি, যার বর্ণণা কোন মানব মনে কল্পনা করা সম্ভব নয় এবং যা কোন ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
হাদীসে কুদসীতে“আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য তৈরি করেছি যা কোন চোখ দেখেনি,
কোন কান শ্রবণ করেনি এবং কোন মানুষের অন্তরে তার কল্পনা হয়নি”। [বুখারি ও মুসলিম]
“কেউ জানে না, তাদের জন্য নয়নাভিরাম কি কি উহ্য রাখা হয়েছে, তাদেরই কর্মের প্রতিদান স্বরূপ।” [সাজদাহ ১৭]
জান্নাত অর্জন করার জন্য শ্রম ও প্রচেষ্টা ব্যয় করতে হবে, জান্নাত তো খুবই দামী উপহার।
এটা কি এমনিতেই বিনাশ্রমে পাওয়া যাবে?
২য় প্রতিশ্রুতি
পথ চলার আলো
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলছেন, “যেদিন আপনি দেখবেন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদেরকে, তাদের সম্মুখ ভাগে ও ডানপার্শ্বে তাদের জ্যোতি ছুটোছুটি করবে বলা হবেঃ আজ তোমাদের জন্যে সুসংবাদ জান্নাতের, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত, তাতে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহাসাফল্য”। [সূরা হাদীদ ৫৭:১২]
শেষ বিচারের দিনের একটি পর্যায় হবে অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং আমাদের সবাইকে একটি সেতু পার হতে হবে, সেই সেতুটি হচ্ছে পুলসিরাত যা চুলের চেয়েও সরু এবং তরবারীর চেয়েও ধারালো, আর সেখানে কোন আলো থাকবে না। কাজেই সেই পুলসিরাত অতিক্রম করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে যদি না আল্লাহ্র পক্ষ থেকে আমাদেরকে আলো দান করা হয়। আর এই আলো নির্ভর করবে দুনিয়াতে আমাদের অন্তরে কি পরিমাণ আলো ছিল তার উপর, আর এই আলো কোন বাতি বা কুপির আলোর মত নয় বরং এটা হচ্ছে আধ্যাত্মিক আলো , আর এই আলোকিত অন্তরের আলোই সেই শেষ বিচারের দিনে ব্যবহারিক আলোর রূপ নিয়ে আসবে।
আমাদের অন্তরে কি পরিমাণ ঈমান রয়েছে সে অনুসারে আমরা আলো লাভ করব। শেষ বিচারের দিনে ঈমান নূর হিসেবে আমাদের সাথে থাকবে। অন্ধকার পুলসিরাতের উপর কিছু লোক এত বেশি আলো লাভ করবে যে তারা এক পলকে ঝড়ের বেগে সেই পুলসিরাত পার হয়ে যাবে। কেউ দৌড়ে যাবে, কেউ হেঁটে যাবে, আবার অনেকে এক পা সামনে ফেলে আলোর অভাবে থমকে দাঁড়াবে, আর অনেকে অপর্যাপ্ত আলো তথা নূরের জন্য সেই পুলসিরাত পার হতে পারবে না।
৩য় প্রতিশ্রুতি
আল্লাহ আপনার সাথে থাকবেন
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলছেন,
“…জেনে রেখ আল্লাহ রয়েছেন ঈমানদারদের সাথে।.”
[সূরা আনফাল ১৯]
যখন আল্লাহ্ জানিয়ে দিলেন যে তিনি ঈমানদারদের সাথে আছেন এর মানে হল আমাদের আর কাউকে দরকার নেই।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন “আল্লাহকে সংরক্ষণ করবে তো তিনি তোমাকে সংরক্ষণ করবেন, আল্লাহকে স্মরণ করলে তাঁকে তোমার সামনেই পাবে।” (তিরমিযি ২৫১৬)
৪র্থ প্রতিশ্রুতি
আল্লাহ্র পক্ষ হতে উদারতা,দয়া ও করুণা - ফযল
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলছ
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন