যিনা বা ব্যভিচারের কারণে মানুষের ব্যক্তি ও
সমাজ জীবনে বিভিন্ন ধরণের কুফল বয়ে আনে এর
মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল:
(১) যিনাকারী বিভিন্ন ধরণের রোগে আক্রান্ত
হয়। বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এ
কথা অনস্বীকার্য যে, যিনা-ব্যভিচারের
মাধ্যমে প্রাণঘাতি বিভিন্ন যৌন রোগ সৃষ্টি হয়
যার মধ্যে মরণঘাতি এইডস্ (এইচ, আই, ভি),
সিফিলিস, গণোরিয়া, মেহ-প্রমেহ, ক্ষয়রোগ
ইত্যাদি প্রধান।
(২) ব্যভিচারের কারণে যৌন সম্ভোগের বৈধ পথ
রূদ্ধ হয়ে যায়; এর মাধ্যমে বিবাহ, পরিবার,
সন্তানসন্তুতির প্রতি মানুষের
অবজ্ঞা সৃষ্টি হয়। ফলত: আবহমান কাল
ধরে চলে আসা পরিবার প্রথা ধ্বংস হতে বাধ্য
হয়।
(৩) যিনা মানুষ ও চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যকার বিভেদ
উঠায়ে দেয়, এ দুই শ্রেণীর মধ্যে মূল পার্থক্য
হল- চতুষ্পদ জন্তুর যৌনসঙ্গমের কোন নির্দিষ্ট
পরিসর নেই, কিন্তু মানুষের জন্য এ পরিসর সীমিত।
তাই মানুষ যখন যিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হয় তখন
এ পরিসরের দেয়াল টপকে মানুষ চতুষ্পদ
জন্তুতে পরিণত হয়। এ শ্রেণীর মানুষের দৃষ্টান্ত
দিয়ে আল্লাহ বলেন:
• “তারা খায় ও আনন্দ উপভোগ করে যেমন
আনন্দ উপভোগ করে চতুষ্পদ জানোয়ার।” (সূরা :
মুহাম্মদ ১২)
(৪) যিনাকারীর লজ্জা থাকে না। যৌন
পিপাসা মিটানোর নেশায় সে সাধারণ মানবিক
লজ্জা-শরম হারিয়ে ফেলে। বৈধ-অবৈধের
মধ্যে কোন পার্থক্য তার কাছে আর থাকে না।
(৫) মানুষের ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক
অর্থনীতিতে যিনা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
পতিতার উপার্জন:
---------------------
সবচেয়ে নিকৃষ্ট উপার্জন হল- ব্যভিচারিণীর ঐ
উপার্জন যা সে ব্যভিচারের মাধ্যমে অর্থাৎ
দেহ ব্যবসার মাধ্যমে অর্জন করেছে। এ সম্পর্কে
# রাফে বিন খাদিজ (রা) হাদীস
বর্ণনা করেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “কুকুর বিক্রিত
পয়সা নিকৃষ্ট এবং যিনাকারিণীর উপার্জনও
নিকৃষ্ট।” (মুসলিম)
অতএব যারা দেহ ব্যবসা করে অর্থ উপার্জন
করে তাদের এ নিকৃষ্ট উপার্জন
সম্পূর্ণভাবে হারাম, এ উপার্জন তাদের কোন
উপকারে আসে না; এ অর্থ দিয়ে কোন কিছু
করা হলে তা নিমিষেই ধ্বংস হয়ে যায়।
যিনার প্রতি উদ্বুদ্ধকারী বিষয়সমূহের হুকুম:
---------------------------------------------
---------
চলমান বিশ্বে ব্যভিচার ও অশ্লীলতার সমস্ত
পথ উন্মুক্ত হয়ে আছে। বস্তুবাদী মানুষ
যারা মনে করে এই দুনিয়াই শেষ, যতটুকু পার
এখানেই আনন্দ উপভোগ করে যাও
তারা মানুষকে বিপদগামী করার জন্য বিভিন্ন
কলাকৌশল উদ্ভাবন, নারী স্বাধীনতার
নামে বেহায়াপনার প্রচলনের মাধ্যমে মানব
সমাজকে বিশেষত: যুবক শ্রেণীকে ধ্বংসের অতল
গহ্বরে নিয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তারা নিত্যনতুন
পথ ও পদ্ধতির উদ্ভাবন করছে। অশ্লীল সিনেমা,
নোংরা পত্র-পত্রিকা, পর্ণ সিডি-ভিসিডি,
টেলিভিশন চ্যানেল, ইন্টারনেটে বিভিন্ন সাইড
এসবের কারণে মানুষ যিনার
প্রতি বেশী ঝুকে পড়ছে। ইসলাম কোন বিষয়
হারাম করলে উক্ত হারাম বিষয়ের
প্রতি উদ্বুদ্ধকারী আনুষঙ্গিক বিষয়ও হারাম
করে। অতএব আল্লাহর হারামকৃত যিনার
প্রতি উদ্বুদ্ধকারী সব কিছুই হারাম। যদি কেউ
যিনা ও উচ্ছৃঙ্খল যৌন
আচরণে উদ্বুদ্ধকারী বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত হয়
তবে ইসলামী বিধান মতে সে অবশ্যই
শাস্তিযোগ্য অপরাধী বিবেচিত হবে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন